ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সঠিক গাইডলাইন
প্রকাশের তারিখ: ০৯ জুন, ২০২৬ | লেখক: এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, শিলমুন হেলথ ডেক্স
ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus) বর্তমান বিশ্বে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে একটি অতি পরিচিত দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা। যখন আমাদের অগ্ন্যাশয় (Pancreas) পর্যাপ্ত ইনসুলিন হরমোন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর যখন ইনসুলিনের সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়, তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। যদিও এটি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে একে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণসমূহ:
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (বিশেষ করে রাতে)।
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া এবং ক্ষুধা লাগা।
- পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া।
- চোখে ঝাপসা দেখা এবং ক্লান্তি বোধ হওয়া।
- শরীরের কোনো ক্ষত বা কাটা স্থান দেরিতে শুকানো।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে "৩-ডি" (3-D) ফর্মুলা:
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকেরা বিশ্বব্যাপী ৩-ডি ফর্মুলা মেনে চলার পরামর্শ দেন:
- Diet (খাদ্য নিয়ন্ত্রণ): অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। খাবারে লাল চালের ভাত, শাকসবজি, টক ফল এবং ওটসের মতো আঁশযুক্ত খাবার বাড়াতে হবে।
- Discipline (শৃঙ্খলা): প্রতিদিনের কাজের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং মানসিক অবসাদমুক্ত জীবনযাপন করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ সাহায্য করে।
- Dose (ওষুধ বা ইনসুলিন): ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে। কখনোই নিজের ইচ্ছায় ডোজ পরিবর্তন বা বন্ধ করা যাবে না।
শারীরিক পরিশ্রম ও নিয়মিত পরীক্ষা:
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত বিরতিতে রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ করা এবং প্রতি ৩ মাসে অন্তত একবার HbA1c পরীক্ষা করে বিগত ৩ মাসের গড় সুগারের হিসাব রাখা জরুরি।
শিলমুন স্পেশালাইজড হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও হরমোন (Endocrinology) বিভাগে অভিজ্ঞ কনসালট্যান্টদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ডায়েট চার্ট এবং ফলোআপ প্রদান করা হয়। আজই আপনার সুগার লেভেল পরীক্ষা করে ডায়াবেটিসের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকুন।